
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুরে আবাসিক মাদ্রাসার এক ১৩ বছরের শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. মাসুদ (২৭) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে ওই মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, সদরপুর থানাধীন চর রায়নগর সাকিনস্থ জামিয়া ইসলামিয়া দারুল কোরআন মাদ্রাসার নাজেরা শাখায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী।
অভিযোগে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় ভুক্তভোগী নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করেন, সে কেন বাড়িতে যাচ্ছে। পরে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তার শয়নকক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে তার শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলাৎকার করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করতে চাইলে অভিযুক্ত তাকে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে এবং ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর স্বজনরা গত ১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্তের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনাটি স্বীকার করেন বলে পুলিশের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে মাদ্রাসার সামনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং চরভদ্রাসন থানা পুলিশকে খবর দেন। চরভদ্রাসন থানার এসআই করিমসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল চরভদ্রাসন থানার আওতাধীন হলেও ভুক্তভোগীর বাড়ি ও মাদ্রাসাটি সদরপুর থানা এলাকায় হওয়ায় পরবর্তীতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সদরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাকে সদরপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
অভিযুক্ত মো. মাসুদ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার রুদাঘরা শাহাপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মাহবুব গোলাদার বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে সদরপুর থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৪:৫৬ ৩১ বার পঠিত