
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভুট্টা ক্ষেতে গরু যাওয়াকে কেন্দ্র করে মীমাংসিত একটি বিষয়কে ঘিরে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামে আলমের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিন্যাফৈর গ্রামের কালু মিয়ার ভুট্টা ক্ষেত একই গ্রামের আনোয়ার খন্দকারের গরু দিয়ে খাওয়ানো হয়েছে বলে—এমন সন্দেহ করে, কালু মিয়া ও তার লোকজন আনোয়ার খন্দকারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
তবে পরদিন শুক্রবার(২ অক্টোবর) সকালে আলম খন্দকার তার ধান ক্ষেতে ইউরিয়া সার দিতে গেলে কালু মিয়া, সুলতান ভূঁইয়া ও বাদশা মিয়া ও শরিফ মিয়া তার বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে আবারও গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনার সময় লিটন খন্দকার তা থামাতে গেলে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরা হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে এক পক্ষের লিটন খন্দকার(৩৫), সূর্য ভানু(৬৫), আলম খন্দকার(৪২),কালাম খন্দকার(৪৮),আব্দুস সামাদ খন্দকার(৫৫), আনোয়ার খন্দকার(৪২)ও চায়না বেগম(৪২) এবং অপর পক্ষের কালু মিয়া(৫০) রবিউল তালুকদার (৩৮), সুলতান ভূঁইয়া (৪০) ও বাবর আলী (৬৫) সহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুলতান ভূঁইয়া,রবিউল তালুকদার ও বাবর আলী অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন অহেতুক তর্ক জড়িয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করেছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী আনোয়ার খন্দকার জানান, পূর্বের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে কালু মিয়া, সুলতান ভূঁইয়া ও বাদশা মিয়াসহ তাদের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৯:০৫ ৪ বার পঠিত