
বিশেষ প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ: মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া চার বছর বয়সী শিশু আব্দুল্লাহকে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী প্রদান এবং শিশুটির জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা অটোরিকশাচালককে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৩অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কুতুবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। সকাল ১০টার দিকে গাবতলা মোড় এলাকায় পথ চলার সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিশুটি আহত হয়। দুর্ঘটনা ঘটলেও অটোরিকশাচালক তাকে ফেলে না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে স্বজনদের খোঁজ করতে থাকেন ওই চালক। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও পরিবারের সন্ধান না পেয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি।
ঘটনাটি জানতে পেরে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির পরিচয় উদঘাটনে মাঠে নামেন। সবার সমন্বিত উদ্যোগে দীর্ঘ চার ঘণ্টার চেষ্টার পর কুতুবপুরের লালখান এলাকায় শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে আবদুল্লাহকে তার পিতা-মাতার হাতে তুলে দেন।
শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, বিপদের মুহূর্তে শিশুটিকে উদ্ধার, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সঠিক স্থানে পৌঁছে দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল কাজ করায় অটোরিকশাচালকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তার এই মানবিক দৃষ্টান্তকে উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মানী প্রদান করা হয়।
নিখোঁজ সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত শিশুটির পরিবার উপজেলা প্রশাসন, অটোরিকশাচালক এবং সহায়তাকারী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের আন্তরিকতা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা এবং একজন সাধারণ অটোরিকশাচালকের মানবিকতাবোধের যে অনন্য মেলবন্ধন এই ঘটনায় দেখা গেছে, তা সমাজে সহমর্মিতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।
আপনি চাইলে এটি কোনো নির্দিষ্ট সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে প্রকাশের জন্য হুবহু ব্যবহার করতে পারেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২:৪২:৪৮ ১৮ বার পঠিত