![]()
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের উচিত জবাব দেবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
আজ দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেটিকে এই ষড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে।’
তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশের শ্রমিকদেরও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই সুযোগ না পায়। কারণ, এখন দেশ গঠনের এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের সময়।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেবো। আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে, খেটে খাওয়া মানুষকে সাথে নিয়ে, শ্রমিক ভাই বোনদেরকে সাথে নিয়ে ইনশাল্লাহ জবাব দেবো। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই সেটা হলো- ‘করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা বিগত ১৫/১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, আজ তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। শুধু তা-ই নয়, তারা দেশের মিল-কারখানাগুলোও ভেঙে দিতে চাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মিল-কারখানা দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এগুলো ধ্বংস হলে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের খেটে খাওয়া মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিক ভাই-বোনেরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ।
মজুরি বোর্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। ইনশাল্লাহ আগামী দুই এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই বোনেরা এর চেয়েও ভালো থাকতে পারেন।’
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দিন-রাত পরিশ্রম করছে, যাতে দেশের সমস্যার সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করা যায়। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটানোই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব সারাদেশে বিভিন্ন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল কলকারখানাগুলো চালু করতে।’
তিনি আরও বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৬:৩৯ ৯ বার পঠিত #খুলনা-মোংলা মহাসড়ক #তারেক রহমান #শিল্পকারখানায় হামলা #শ্রমিকদের মজুরি