সীমান্তে দুই বাংলার মানুষদের মিলনমেলা

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী »  সীমান্তে দুই বাংলার মানুষদের মিলনমেলা
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২



---

মোস্তাফিজার রহমান রংপুর প্রতিনিধি : প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁওয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দুই বাংলার মানুষদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দিনটিকে ঘিরে প্রতি বছর দুই বাংলার মানুষদের থাকে বাহারি আয়োজন। কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে দেখা হয় প্রিয়জনের সঙ্গে। আর কাঁটাতারের ওপর দিয়ে ছুড়ে পাঠানো হয় নানা উপহার।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জগদল সীমান্তের ৩৭৩ ও ধর্মগড় ইউনিয়নের ৩৭৪ এবং হরিপুর উপজেলার ৩৬৮ থেকে ৩৭১ পিলারের কাছে নাগরভিটা নদীর তীরে বসে দুই বাংলার হাজারো মানুষের মিলনমেলা।
মেলাকে ঘিরে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া এবং অপরদিকে ভারতের কোচবিহার, আসাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মিনিবাসযোগে হাজারো মানুষ সীমান্তে হাজির হয়। এরপর চলে প্রতীক্ষার প্রহর।
স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা এসে জড়ো হয় সীমান্তে। দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা মানুষজন একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি। সারা বছর দুই বাংলার মানুষ অপেক্ষা করে এই দিনটির জন্য। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগে থেকেই জানিয়ে দেন স্বজনরা। কে কোথায় দেখা করবেন। এই মিলনমেলায় দুই বাংলার লাখো মানুষ মিলিত হয়ে সেরে নেন স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়।
দিনাজপুরের কাহারোল থেকে আসা আব্দুর রহিম বলেন, আমার বোন ও তার জামাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছি। গতবার এসেছিলাম দেখা করতে পারিনি। এবারে দেখা হয়েছে। শীতের কম্বল পাঠালাম কাঁটাতারের ওপর দিয়ে। বোনের পরিবারের সবাইকে দেখে বেশ ভালো লাগল।
বোনের জন্য পিঠা নিয়ে আসা স্থানীয় বৃদ্ধা হালেমা খাতুন বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে দিছি ওই দেশের ছেলেকে দিয়ে। মেয়ে ও জামাই পিঠা চাইছে ফোন দিয়ে। তাই আজকে পিঠা বানাই নিয়ে আসছি। নাতির দ্বারা কাঁটাতার দিয়ে পিঠা দিলাম। খুব শান্তি পাইলাম।
রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, ১৯৭৪ সালের পর উপজেলার সীমান্ত এলাকা পাক-ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। এ কারণে দেশ ভাগের পর আত্মীয়-স্বজনরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতে না পারায় এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। আজ সেই দিন, এই দিনে ভারত এবং বাংলাদেশের দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা ঘটে।
হরিপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরিফুল হক বলেন, এ দিনকে ঘিরে দুই দেশের মানুষের আলাদা উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করে। আজকেও দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা ঘটেছে। তারা উভয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন। যদিও কাঁটাতারের বেড়া ছিল। তবু ভালোবাসা ছিল বেশ প্রখর। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে অনেক দিন ধরে এই মিলনমেলা চলে আসছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৩৯:৫৫   ৫৭৬ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯ জনের দণ্ড
বিমানবন্দরে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হলে ই-মেইলে জানাতে বললেন মন্ত্রী
ঢাকায় ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী : শাহে আলম
প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই : পরিবেশমন্ত্রী
দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও বাস্তবভিত্তিক যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দুর্গাপূজায় চালের বরাদ্দ বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী: এমপি ফয়সল
সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা
ডেঙ্গু সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বরিশালে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ