‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবু শাস্তি পায়’

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবু শাস্তি পায়’
বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫



‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবু শাস্তি পায়’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এর আগে চলতি বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্যোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি এই অধিবেশনের সামনে আবার ঘোষণা করছি, ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি এবং কখনো করবে না।’

পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ‘অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে ইসরায়েল, অথচ শাস্তি পেতে হচ্ছে ইরানকে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরান দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক ফরমানও সে দাবি সমর্থন করে। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে।
তাদের ধারণা, ইরানের উন্নতমানের পারমাণবিক কর্মসূচি থাকায় চাইলে দেশটি দ্রুত বোমা তৈরির পথে যেতে পারে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি জাতিসংঘের সেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পথে এগোচ্ছে, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর স্থগিত ছিল। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা থেকে সরে আসেন।

নতুন নিষেধাজ্ঞা শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার ইউরোপীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যদিও তাতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কেবল আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হন তারা।

পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তারা নিজেদের চুক্তির দায়িত্বশীল পক্ষ হিসেবে মিথ্যা উপস্থাপন করেছে। ইরানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে তারা অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসবের উদ্দেশ্য ছিল চুক্তি ধ্বংস করা, যেটিকে তারা একসময় নিজেদের বড় অর্জন বলেই প্রচার করেছিল।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় পেজেশকিয়ান ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন। তেহরানের দাবি, এতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটছিলাম, তখনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শহর, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এটি ছিল কূটনীতির প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৭:২৩   ৪১৫ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আন্তর্জাতিক’র আরও খবর


আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ
ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড চুক্তিকে ‘বাধ্যতামূলক’: ডেনমার্ক
সৌদি আরবকে রক্ষায় সবকিছু করতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ: পাকিস্তান
আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ জাতিসংঘ মহাসচিবের
ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইইউ’র
মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলা, ১৫ পুলিশসহ নিহত বেড়ে ২৭
শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে ঢাকা, যা বলল ভারত
ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান : দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট
সমুদ্র গবেষণায় চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির সঙ্গে ঢাবির চুক্তি নবায়ন
দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরাইলি হামলা

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ