
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের এম. মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ করে দেওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষা বোর্ড যে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার চেয়ে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি আদায় করেছে। অভিভাবকরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে ২,৪৩৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২,৩১৫ টাকা বোর্ড নির্ধারিত ফি হলেও, বিদ্যালয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। কিন্তু এম. মনসুর আলী জাতীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষায় দুইয়ের অধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফরম পূরণ করানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়প্রতি ৬০০ টাকা করে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে এমনকি ৮-১০ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদেরও বোর্ড পরীক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষকদের একাংশ, মেধাবী শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়াও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি অপপ্রয়াস। এতে আগামীর প্রজন্ম মেধাশূন্য হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তার বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু বিদ্যালয় না, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবিতে।”
এদিকে শিক্ষা বোর্ড থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল অবিলম্বে এই ‘অর্থ বাণিজ্য’ বন্ধ এবং শিক্ষার মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য যে,”মাধ্যমিক পর্যায়ের একদল শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পড়লেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে এখান থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছেন। মূলত দ্বৈত শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম সুনাম অর্জনই এর মূল লক্ষ্য।”
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৮:৫৫ ১৪৭ বার পঠিত