
বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে দেশটিকে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে ইরান সরকার, এমন দাবি করেছেন দেশটির ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা।
ইরানের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচ’র বরাতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্যা গার্ডিয়ান।
সংস্থাটি জানায়, ‘শুধু সরকারি কাজের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি গোপন পরিকল্পনা চলছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা স্থায়ী রূপ নিতে পারে। ২০২৬ সালের পর অবাধ ইন্টারনেট সংযোগ আর নাও থাকতে পারে।’
ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রশিদি বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব নাগরিকের কাছে সরকারি ‘ক্লিয়ারেন্স’ থাকবে বা যাদের সরকারিভাবে যাচাই করা হবে, কেবল তারাই ফিল্টারকৃত বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সীমিত ‘জাতীয় ইন্টারনেট’ ব্যবস্থাই চালু রাখা হবে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর গত ৭ জানুয়ারি দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার, যা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। নির্বাসিত শেষ শাসকের পুত্র রেজা পাহলভির আহ্বানে ৭ ও ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আগের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ওই দুই দিনে সহিংস রূপ নেয়; বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। তবে শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৮:৫২ ৫ বার পঠিত