
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের যথার্থতা স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব প্রতিবেদন স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল।
হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে প্রায় ৭১ হাজার নিহতের সংখ্যা মোটের ওপর সঠিক, তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ব্যক্তিরা এতে অন্তর্ভুক্ত নন।
ইসরায়েলি সরকার বহু বছর ধরে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে এবং একে ‘ভ্রান্ত ও অবিশ্বস্ত’ বলেও অভিহিত করেছে।
সেনাবাহিনী জানায়, তারা তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করছে। এতে অনাহারে মারা যাওয়া বা গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি গণহত্যার ফলে রোগে আক্রান্ত হয়ে নিহত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত নন।
তথ্যগুলোর যথার্থতা স্বীকার করলেও সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উপত্যকাটিতে বেসামরিক ও সামরিক নিহতদের আলাদা করে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
গাজায় সংঘটিত গণহত্যায় নিহতদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই বেসামরিক নাগরিক, কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মূলত ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে দূর থেকে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের পথ বেছে নিয়েছে।
গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা গণহত্যার অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অর্জিত একটি যুদ্ধবিরতি নেওয়া হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের মাধ্যমে এক হাজার ৩০০টিরও বেশি লঙ্ঘনের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে এবং এতে প্রায় ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ট্রাম্প পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ফিলিস্তিনি আন্দোলন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা এখনো নিয়ন্ত্রণে রাখা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে—বিশেষ করে ত্রাণ প্রবেশ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়ে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২১:২৩ ৬ বার পঠিত