
একটা সময় মনে হচ্ছিল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝি বিশ্বকাপ মিশন শেষ হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের। তবে ভক্তদের সব আশঙ্কা দূর করে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে সালমান আলী আগার দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে নেদারল্যান্ডসকে ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে দেয় পাকিস্তান। তবে সহজ এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নদীর মতো বার বার বাঁক নিয়েছে পাকিস্তানের ইনিংস।
এদিকে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচ বয়কট করায় এই ম্যাচ জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না পাকিস্তানের জন্য। হারলেই বাদ পড়ার শঙ্কা—এমন সমীকরণ সামনে রেখে ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। সাইম আইয়ুব ১৩ বলে ২৪ রানের ক্যামিও খেলেন।
অন্যদিকে ফারহান ছিলেন আরও সাবলীল—৩১ বলে ৪৭ রান, সঙ্গে ৪ চার ও ২ ছক্কা।
১১.১ ওভারে ফারহান আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৯৮ রান। ম্যাচ তখন পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকে ছিল। তবে সেখান থেকেই নাটকীয় মোড় নেয় লড়াই।
উসমান খান শূন্য, বাবর আজম ১৫, শাদাব খান ৮ এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ৬ রান করে দ্রুত ফিরে যান।
মিডল অর্ডারের এই ধসের ফলে ১১৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে নেদারল্যান্ডসের বোলাররা।
চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন ফাহিম আশরাফ। অলরাউন্ডার মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।
২ চার ও ৩ ছক্কায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তার স্ট্রাইক রেট ছিল চোখ ধাঁধানো ২৬৩.৬৩।
অন্যপ্রান্তে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৫ রানে অপরাজিত থেকে ফাহিমকে দারুণ সঙ্গ দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে জয়ের রান তুলে নেয় পাকিস্তান। রুদ্ধশ্বাস ৩ উইকেটের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে তারা।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পায় নেদারল্যান্ডস। ওপেনার মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’ডাউড আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন।
তবে চতুর্থ ওভারে সালমান মির্জার বলে মাত্র ৫ রান করা ও’ডাউডকে ফিরিয়ে দেন উসমান খান।
এরপর পঞ্চম ওভারে বড় ধাক্কা খায় নেদারল্যান্ডস। ১৫ বলে ২৪ রান করা লেভিটকে আউট করেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। এই উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাবর আজম, বাউন্ডারিতে দারুণ ফিল্ডিং করে শাহীনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন।
মাঝের ওভারে বাস ডি লিডে ও কলিন অকারম্যান ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পাওয়ারপ্লেতেই দলকে ৫০ রানের ঘরে পৌঁছে দেন। তবে অষ্টম ওভারে আবরার আহমেদ অ্যাকারম্যানকে (১৪ বলে ২০) ফিরিয়ে দিলে ভাঙে সেই জুটি। তখন নেদারল্যান্ডসের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৬৫ রান।
১৩তম ওভারে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ১০০ রানে পৌঁছে দিলেও, দ্রুতই আবার চাপে পড়ে নেদারল্যান্ডস।
নেওয়াজ ডি লিডেকে (২৫ বলে ৩০) আউট করে ফেরান, পরে আবরার নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে এডওয়ার্ডসকে (২৯ বলে ৩৭) বিদায় করেন।
পরের ওভারে সাইম আইয়ুব জোড়া আঘাত হানেন। প্রথম বলেই লোগান ভ্যান বেককে শূন্য রানে আউট করার পর জ্যাক লায়ন–ক্যাশেটকে ৯ রানে ফেরান তিনি। এতে নেদারল্যান্ডসের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১২৯ রান। শেষ দিকে শাহীনের বলে ৪ রান করা রোলোফ ভ্যান ডার মার্ভে আউট হন।
শেষ ওভারে সালমান মির্জা আরিয়ান দত্ত (১৩) ও পল ভ্যান মিকেরেনকে (০) আউট করে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের ইতি টানেন।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সালমান মির্জা ছিলেন সবচেয়ে সফল, ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া মোহাম্মদ নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আয়ুব নেন দুটি করে উইকেট, আর শাহীনের ঝুলিতে যায় একটি।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৫:২৬ ৬ বার পঠিত