![]()
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় তিনটি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে পানির অভাবে প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা জমির বোরো আবাদ শুকিয়ে ফাটল ধরেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকরা বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫নং চর এলাকায় গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারাবির নামাজ চলাকালে সবার অগোচরে তিনটি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত বেনজির, ফজলু, জিয়াউল হক ও আসাদুল রিপনসহ কয়েকজন বেশ কিছুদিন ধরে সেচ পাম্প চালু রাখার বিনিময়ে পাম্প প্রতি ৫০ হাজার টাকা (মোট দেড় লাখ টাকা) চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা এই নাশকতা চালিয়েছেন।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে সরকারি নিয়মে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে আসা কৃষকরা এখন চরম বিপাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জমিতে ফাটল: সেচ বন্ধ থাকায় অন্তত ১৫০ বিঘা জমির বোরো ক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে।
কৃষক বাবুল হাসান জানান, জমি প্রস্তুত থাকলেও পানির অভাবে তিনি চারা রোপণ করতে পারছেন না, ফলে বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন নামের এক কৃষককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। “আমার নিজের ২০ বিঘাসহ প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে সেচ বন্ধ। পানির অভাবে জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”
অভিযুক্তদের মধ্যে ফজলুল তার কাটার বিষয়টি স্বীকার করলেও চাঁদা দাবি ও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে বেনজির নামের অপর এক অভিযুক্তের দাবি, “এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম থাকায় সেচ পাম্প চলে না, তাই এলাকাবাসী মিলে লাইন কেটে দিয়েছে।”
জামালপুর বিদ্যুৎ অফিসের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আজাদ রুবেল জানান, বৈধ গ্রাহকের সংযোগ অন্য কেউ বিচ্ছিন্ন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৪:২৩ ৩১ বার পঠিত