
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর জেলা শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই মালামাল কেনাবেচা বন্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১৪ মার্চ) দিনব্যাপী বিভিন্ন ভাঙ্গারির দোকানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে এক যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় চুরির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় চোরাই মালের বাজার বন্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানে পুলিশ সদস্যরা কেবল তল্লাশিই চালাননি, বরং দোকান মালিকদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অভিযানকালে পুলিশ কর্মকর্তারা দোকান মালিকদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন, তারা বলেন, যেকোনো অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে মালামাল কেনার আগে অবশ্যই তার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি দোকানে একটি নির্দিষ্ট রেজিস্টার খাতা রাখতে হবে। সেখানে বিক্রেতার নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর লিখে রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও বৈদ্যুতিক তার, ট্রান্সফরমারের অংশ বা সন্দেহজনক কোনো ধাতব বস্তু কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
কোনো বিক্রেতাকে সন্দেহভাজন মনে হলে দেরি না করে নিকটস্থ থানা বা ডিবি পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “চুরি প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গারি দোকানগুলো সচেতন থাকলে এবং চোরাই মালামাল কেনা বন্ধ করলে চোরদের বড় কোনো বাজার থাকবে না। ফলে চুরির ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু একদিনের জন্য নয়, বরং চুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের আকস্মিক অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে চোরাই মাল কেনাবেচার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২০:৪৬ ৪৩ বার পঠিত