
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বসন্তের শুরুতেই কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা প্রচণ্ড ঝড়ে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এক রাতের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের প্রধান অর্থকরী ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক।
আজ সোমবার(১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার আওনা ও পিংনা ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দিগন্তজোড়া যে মাঠ কয়েকদিন আগেও সবুজে ছেয়ে ছিল, তা এখন মাটির সঙ্গে মিশে আছে। অনেক গাছে মোচা আসার এই মোক্ষম সময়ে এমন বিপর্যয়ে কৃষকদের চোখেমুখে এখন শুধু দুশ্চিন্তার ছাপ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ীতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি। তবে গত কয়েক বছরের সাফল্য ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল, কিন্তু এক রাতের ঝড়ে সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল আজিজ আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক ধার-দেনা করে এবার ভুট্টার চাষ করেছিলাম। আশা ছিল ফসল বেচে ঋণের টাকা শোধ করব। কিন্তু এক রাতের ঝড় সব শেষ করে দিল।” স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা এখন সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানান, “এবার ভুট্টার ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছিল। কিন্তু কালবৈশাখীর প্রবল বাতাসে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ভুট্টা গাছ নুয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছি।”
কৃষকদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি বিশেষ বরাদ্দের দিকেই এখন চেয়ে আছেন উপজেলার সাধারণ চাষিরা।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০১:১৯ ৬৮ বার পঠিত