
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশাকে এক সাংগঠনিক পত্রে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ উপজেলা সভাপতির স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিনটি শূন্য পদে তিনজনকে সদস্য হিসেবে কো-অপশন (মনোনয়ন) দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা কমিটি।
জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছে যে, সরিষাবাড়ী উপজেলা কমিটির ওই ৩ সদস্যের কো-অপশন সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দলের এই সংকটকালীন সময়ে একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন পদক্ষেপ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। গঠনতান্ত্রিক বিধি-বিধান লঙ্ঘন হওয়ায় ওই তিনজনের মনোনয়ন সরাসরি বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
একই পত্রে মহাদান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুল কবির তরফদার রিপনকে তার স্বপদে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরিষাবাড়ীর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়ী ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে অনেকেই একে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ও ‘পদ বাণিজ্য’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার এই সংস্কৃতি থেকে আওয়ামী পরিবারকে মুক্ত করতে হবে।
অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “প্রতারকদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগকে উদ্ধার করতে হবে।” বিতর্কিত উপায়ে পদ পাওয়া ওই তিন ব্যক্তির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনেক নেতাকর্মী বলছেন, এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের ত্যাগী কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দলের মূল গঠনতন্ত্র ও নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৯:১৩ ২৬৮ বার পঠিত