​সরিষাবাড়ীতে কোরবানির মাংস বিতরণে ‘দাপুস’ এনজিওর অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ​সরিষাবাড়ীতে কোরবানির মাংস বিতরণে ‘দাপুস’ এনজিওর অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ
সোমবার, ১ জুন ২০২৬



​সরিষাবাড়ীতে কোরবানির মাংস বিতরণে ‘দাপুস’ এনজিওর অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ‘ইসলামী রিলিফ বাংলাদেশ’-এর কোরবানির মাংস বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সহযোগী এনজিও ‘দাপুস মাইক্রোফাইন্যান্স’-এর বিরুদ্ধে সংস্থার নীতিমালা উপেক্ষা করে দরিদ্র উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ওজনে কম মাংস দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​জানা গেছে, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে উপজেলার কামরাবাদ, পোগলদিঘা ও ডোয়াইল ইউনিয়নে মোট ৪৯টি গরু কোরবানি দিয়ে মাংস বিতরণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতি পরিবারকে ২ কেজি করে মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও, অনেক উপকারভোগী টোকেন পেয়েও মাংস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

​ডোয়াইল ইউনিয়নের পল্লব খান বলেন, ​”টোকেন দিলেও সরজমিনে গিয়ে অনেকে মাংস পায়নি। আর কিছু লোক পেলেও যা পাওয়ার কথা তা পায়নি। রিলিফের নামে মানুষকে যারা এভাবে হয়রানি করেছে, তাদের যথাযথ বিচার হওয়া দরকার।”

অন্যদিকে, সালমা বেগম ও পারুল আক্তারসহ একাধিক উপকারভোগী অভিযোগ করেন, মাংস দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২ কেজির জায়গায় তাদের মাংস দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ কেজি ৩০০ গ্রাম।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, দাপুস এনজিওর যেসব গ্রাহক ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি দিচ্ছিলেন না, তাদের বকেয়া কিস্তি আদায়ে এই মাংস বিতরণকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন মাঠকর্মীরা। সেইসাথে টাকা আদায়ের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও উপকারভোগীদের কড়া নিষেধ করা হয়।

​ইসলামী রিলিফ সংস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত ছিল—কেবল অতিদরিদ্র, অসহায়, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, শারীরিক/মানসিক প্রতিবন্ধী, বয়োবৃদ্ধ এবং চরাঞ্চল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোই এই সহায়তা পাবে। কিন্তু স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এই মানবিক শর্তাবলি তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সচ্ছল পরিবারের মাঝে স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

​টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে দারিদ্র্য ও পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি (দাপুস) এনজিওর পরিচালক আলী আকবর বলেন, ​”উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মদন গোপালসহ ইসলামী রিলিফের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা তাহসিনের উপস্থিতিতেই দুটি ভেন্যুর মাধ্যমে মাংস বিতরণ করা হয়েছে।” এখানে কোন অনিয়ম হয়নি।

​উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মদন গোপাল জানান, ​”আমি উপস্থিত থেকে মাংস বিতরণ দেখেছি। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।”

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইসলামী রিলিফের কর্মকর্তা তাহসিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

​ইসলামি শরিয়াহ এবং ইসলামী রিলিফ বাংলাদেশের মূল নীতি অনুযায়ী, কোরবানির মাংস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দরিদ্রদের মাঝে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। মাংস বিতরণের যাবতীয় খরচ (পরিবহন ও প্যাকেজিং) দাতা সংস্থা আগেই পরিশোধ করে দেয়। ফলে মাংস দেওয়ার নামে কোনো প্রকার লুকানো শর্ত, বাধ্যতামূলক সঞ্চয় বা বকেয়া কিস্তি আদায় করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র এনজিও ‘দাপুস’ নিজেদের সমিতির বকেয়া তুলতে এই দাতব্য কার্যক্রমের চরম অপব্যবহার করেছে। এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৮:৩৩   ২০২ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


পরিবারের সুস্থতা ও সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া
সদরপুরে অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর
জামালপুরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট শামীম গ্রেপ্তার
বেতন ও কারখানা খোলার দাবিতে ফতুল্লায় ইউনাইটেড এ্যাপারেলের শ্রমিকদের অবরোধ
আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত করায় সরকারের জোর
ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থায় আইএইএ সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বিজ্ঞানমন্ত্রী
ফতুল্লায় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বড় অংশ উদ্ধার, গাড়িচালক গ্রেপ্তার
স্থানীয় সরকার সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনডিপির সঙ্গে কাজের প্রত্যাশা মন্ত্রীর
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে প্রথম আফসানা পেলেন ল্যাপটপ
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ সাখাওয়াতের

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ