
জামালপুর প্রতিনিধি : “আমার স্বামীকে আমি নিয়ে যেতে দেব না। তাকে নিয়ে গেলে আমিও আজ ফাঁসি দিয়ে মরে যাব”— স্বামীর মরদেহ উদ্ধারকালে নিহতের স্ত্রীর এমন হৃদয়বিদারক আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে রেজুয়ান হীরা (৩৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে সৌদি প্রবাসীর ঘরে ঢুকে আত্মহত্যা করেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে নিহতের লাশ দরজা ভেঙে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রেজুয়ান হীরা ওই গ্রামের গোলাম মোস্তফা গণি মিয়ার ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং নিঃসন্তান ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় রেজুয়ান হীরা সবার অজান্তে একই গ্রামের সুরুজ্জামানের সৌদি প্রবাসী ছেলে আপন মিয়ার পাকা ঘরে ঢোকেন।
এরপর তিনি ঘরের দরজা ভেতর থেকে লক করে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঐ সময় পাশের রুমে থাকা প্রবাসীর বৃদ্ধা মা শব্দ পেয়ে উঠে আসেন এবং ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে হীরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে প্রবাসী আপন মিয়ার বৃদ্ধা মা ছাড়া তার স্ত্রী বা বাবা কেউ ছিলেন না।
ডোয়াইল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন জানান, “নিহত রেজওয়ান হীরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। ঘটনার দিন রাত দশটার দিকে তিনি নিজের বাড়িতে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বেরিয়ে আসেন। এরপর কখন, কীভাবে প্রবাসীর ঘরে ঢুকেছেন তা কেউ টের পায়নি। সম্ভবত মানসিক রোগ থেকেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।”
খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের ভিত্তিতে যুবকের মানসিক সমস্যার বিষয়টি জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি প্রবাসীর ঘরে ঢুকে এই চরম পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩২:৩৬ ৩০ বার পঠিত