
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কা*রা*দ*ণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ রোববার দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান বেপারী (৩১)।
রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসার ছাত্রী। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে প্রেমিক না আসায় সে তার মামাতো ভাই রিয়াজ বেপারীকে ফোন করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলে।
পরে রিয়াজ বেপারী ওই কিশোরীকে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লায় সৈয়দ ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে রিয়াজ বাইরে চলে গেলে তার দুই বন্ধু সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান বেপারী ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধ*র্ষ* ণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সুমন মোল্লা, ওসমান বেপারী ও রিয়াজ বেপারীকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, এই রায় নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে এবং একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—এমন বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩০:৫৬ ২ বার পঠিত