
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক কমিটির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম বাদশা এমপি’র সভাপতিত্বে আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৮০ দিনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের ৩০শে জুন সমাপ্য অর্থবছরের জন্য প্রদত্ত বাজেটের খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনা হতে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের অধীন মোট ৪৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং প্রকল্পসমূহের অনুকূলে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৩৫১৪ কোটি টাকা; তন্মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুকূলে মোট ৬টি প্রকল্পের অধীনে ১৩১৪.৩৬ কোটি টাকা।
বৈঠকে শহরে খেলার মাঠ এবং পার্কের অভাব নিয়ে গুরত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
ঢাকাকে একটি মডেল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধীরে ধীরে সংস্কার এবং উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। পুরান ঢাকাকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের জন্য একটি পাইলটিং প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ স্কয়ার ফিট ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পরিত্যক্ত/বিতর্কিত প্লটসমূহ নিয়ে জটিলতা নিরসন করার লক্ষ্যে কমিটির মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এবং আইনগতভাবে সুরাহা করে ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়। ভূমি দখলদারদের থেকে জাতীয় সম্পত্তি উদ্ধার করতে হবে বলে আলোচনা হয়। স্বচ্ছতা আনয়নে ল্যান্ড ব্যাংক বা ভূমি তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানা যায়। এক্ষেত্রে অটোমেশন করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে আলোচনা হয়।
এছাড়াও সরকারি ভবনসমূহের ভূমিকম্প সহনশীলতা নির্ণয় করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের জন্য একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং ৪২টি জেলায় সরকারি ভবনসমূহের ভূমিকম্প সহনশীলতা নির্ণয় করার জন্য প্রজেক্ট নেওয়া হবে বলে জানা যায়।
রাজউকের প্ল্যান পাসের দীর্ঘসূত্রিতা নিরসন করে একে ওয়ান স্টপ সার্ভিস করতে হবে বলে আলোচনা হয়। চলমান কক্সবাজার মাস্টারপ্ল্যান উন্নয়নমুখী হবে বলে মন্ত্রী তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার বিষয়ে বৈঠকের সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়াও বিবিধ আলোচনায় সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনে বর্ষার সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পানি পড়ে। এদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সভাপতি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততার সাথে সকলে একসাথে কাজ করে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকে কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি, মোঃ মোশারফ হোসেন এমপি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি এবং ফেরদৌসী আহমেদ এমপি অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব; মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৭:৩৪ ১৫ বার পঠিত