
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সুদের টাকার কারবার করতে গিয়ে এক নারীসহ স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন স্বপন সাহা নামের এক বিশিষ্ট সুদ ব্যবসায়ী। গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) দিবাগত রাতে উপজেলার কামরাবাদ বেপারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে কামরাবাদ বেপারীপাড়া এলাকার আনিছুর রহমান রঞ্জুর বাসায় প্রবেশ করেন স্বপন সাহা। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসলে তারা নজরদারি বাড়ান। প্রায় ৩০ মিনিট পর ভাড়াটিয়া সুমী আক্তারের ঘর থেকে বের হয়ে গলিতে আসা মাত্রই স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে এবং মারধর শুরু করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন।
ঘটনার বিষয়ে ভাড়াটিয়া সুমী আক্তার জানান, “স্বপন সাহা আমার বাসায় এসেছিলেন সুদে টাকা দেওয়ার জন্য। আমি তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা সুদে চেয়েছিলাম। সে জামানত হিসেবে স্বর্ণালঙ্কার চেয়েছিল, তবে আমি ব্যাংকের চেক দিতে চেয়েছিলাম। এ নিয়ে আলাপের একপর্যায়ে লোকজন হঠাৎ বাসায় হামলা চালিয়ে অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরি করে। তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। স্বামী চট্টগ্রামে চাকরি করায় আমি বাসায় একাই থাকি। বর্তমানে আমি অত্যন্ত আতঙ্কিত এবং ফোন উদ্ধারসহ এ ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে পৌর ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোকাদ্দেস হোসেন টিক্কা বলেন, “সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শত শত মানুষের ভিড় দেখতে পাই। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বপন সাহাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। বৃদ্ধ বয়সে তিনি এ ধরনের কাজে জড়িত হতে পারেন বলে মনে হয় না, তবে এলাকায় তিনি সুদ ব্যবসায়ী হিসেবেই সুপরিচিত।”
বাসার মালিক আনিছুর রহমান রঞ্জু এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তিনি মর্মাহত এবং ওই ভাড়াটিয়াকে আগামীকালের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে গোপনে বড় ধরনের রফাদফা হয়েছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনাও হতে পারে। তবে স্বপন সাহার অবৈধ সুদের ব্যবসা বন্ধে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে স্বপন সাহার ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্বপন সাহার ভাগিনা সাগর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:১৬ ৩০৮ বার পঠিত