
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ইউরেনিয়ামের চালান আজ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে সড়কপথে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ির বহর পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মোড় হয়ে শনিবার দুপুরে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি বুঝে নেন।
পরে রাতেই সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম রূপপুরে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
রূপপুর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, আজ শনিবার সকাল ৭টার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি লরি সড়কপথে যমুনা সেতু হয়ে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। চালানটি রূপপুরে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদী ও রূপপুর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
প্রকল্প সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসবে।
এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য যে জ্বালানি আনা হয়েছিল, তা চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পের পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার-অপারেটেড রিলিফ ভালভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান।
তিনি জানান, পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ভালভগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরিমিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার গণমাধ্যমকে জানান, সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি নিরাপদে রূপপুরে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১১:০৪ ৪ বার পঠিত