![]()
যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-সহ বিভিন্ন সংগঠন শনিবার নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ও গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে।ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চলতি মাসে বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ও ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
তবে বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
তাদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনে সুবিধা পেতে পারে।
এর আগে, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, অল্প সময়ের নোটিসে আবেদন করা, আগের কর্মসূচিতে নিয়ম না মানার অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানান, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে ৭ অক্টোবর সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস আবেদন করেছিলেন। শনিবার এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা।
নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাহুল গান্ধী।
চলতি সপ্তাহে একটি বিক্ষোভ চলাকালে তাকে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। এদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতার শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতে পারেন তারা।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের আগে রাজধানীতে ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে হলুদ ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সরকারি বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে প্রবেশের পথেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। পুলিশ ওই স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) চলতি বছরের মে মাসে অনলাইনে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় সংগঠনটি। তাদের প্রচারের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়।
শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘গণসংহতি’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সিজেপির অভিযোগ, বিক্ষোভের আগে তাদের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের আটক করছে পুলিশ। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সিজেপি কর্মী সৌরভ দাস সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করে লেখেন, ‘দিল্লি পুলিশ বিজেপির ব্যক্তিগত বাহিনীর মতো কাজ করছে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০২:৪১ ১৯ বার পঠিত