![]()
কালকিনি প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মহরদ্দির চর থেকে শুরু হওয়া শিক্ষা জীবনের পথ পেরিয়ে বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়—মেধা ও অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অধ্যাপক ড. মুস্তাক ইবনে আয়ুব। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চার সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Office of International Affairs (OIA)-এর পরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কালকিনির এই কৃতি সন্তান। গত ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মুস্তাক ইবনে আয়ুবের শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় কালকিনির মহরদ্দির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।পরবর্তীতে তিনি সমিতির হাট এ.কে. উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় মাদারীপুর জেলায় ১ম স্থান অর্জন করেন। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অধিকার করেন। একাডেমিক মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডসহ দুটি স্বর্ণপদক লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা শুরুর পর কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বিষয়ে গবেষণায় পিএইচডি অর্জন করেন ড.মুস্তাক। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার ওয়াল্টার বডমার। অক্সফোর্ডের হার্টফোর্ড কলেজে গবেষকদের সভাপতি এবং ডিনের সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঐক্যের প্রতীক ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ সোসাইটি’র তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. মুস্তাক ইবনে আয়ুবের ঝুলিতে রয়েছে বহু সম্মাননা। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের অ্যালামনাই ইউকে অ্যাওয়ার্ডে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গবেষক হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন।পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Howard Brain Sciences Foundation-এর ফেলোশিপ এবং উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য দুটি মার্কিন পেটেন্ট অর্জন করেন তিনি।
বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এবং তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘Young Biotechnologist of Bangladesh (YOUNG BB)’ এবং ক্যানসার সচেতনতায় কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘Cancer Care and Research Trust (CCRT)’। এছাড়াও বিজ্ঞানবিষয়ক জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘সুরক্ষায় প্রতিদিন’-এর প্রায় ৬০০ পর্ব উপস্থাপনা করেছেন তিনি। তাঁর রচিত বিজ্ঞান ও সাহিত্যবিষয়ক বেশ কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে।
পূর্বে ঢাবির Institutional Quality Assurance Cell (IQAC)-এর অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নতুন দায়িত্ব পেয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কালকিনির এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানো অধ্যাপক ড. মুস্তাক ইবনে আয়ুবের এই অর্জন মাদারীপুর তথা সমগ্র দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অভাবনীয় অনুপ্রেরণা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৯:৫৫ ২০ বার পঠিত