
শেষ দুই ওভারে চট্টগ্রামের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯ রান। মিরপুরের উইকেটে এই সমীকরণ মেলানো নেহাতি সহজ কাজ নয়। তবে সেই কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী। শেষদিকে মেহেদীর ৯ বলে অপরাজিত ১৯ রানে ভর করে ৩ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
১৯তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান শেখ মেহেদী। পরের বলে নেন দুই রান। সেই ওভার থেকে আসে ১০ রান। আর তাতে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায়, ৬ বলে ৯ রান।
শেষ ওভারে রিপন মণ্ডলের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে শেখ মেহেদীকে স্ট্রাইক দেন আমের জামাল। পরের বলটা ছিল কিছুটা লো ফুলটস, মিড অনের ওপর দিয়ে সেই বল সীমানা ছাড়া করেন মেহেদী। আর তাতে সমীকরণ দাঁড়ায় ৪ বলে ২ রান। তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ছিল একটু ধীরগতির। পাওয়ার প্লেতে তারা তুলতে পারে মাত্র ৩৭ রান। তবে তানজিদ হাসান তামিমের ৪১ ও শেষদিকে সাকলাইনের ৩২ রানে ভর করে ১৩৩ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী।
জবাব দিতে নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার মির্জা বেগ ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৬৪ রান। যদিও দুজনেই ব্যাট করেছেন কিছুটা ধীরগতিতে। ৩৮ বলে ৩০ রান করা নাঈমকে সাজঘরে ফেরান আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২৫ বলে ৩৫ রান যোগ করেন মির্জা বেগ ও হাসান নাওয়াজ। ১৪ বলে ২০ রান করা হাসান নাওয়াজকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন হাসান মুরাদ। আসিফ আলি ফিরেছেন দ্রুতই। দলীয় ১১২ রানে ৮ বলে ১১ রান করে সাকলাইনের বলে তানজিদের হাতে ধরা পড়েন এই পাকিস্তানি।
দলীয় ১২৪ রানের মাথায় ৪৭ বলে ৪৫ রান করা মির্জা বেগকে শান্ত’র ক্যাচ বানান বিনুরা ফার্নান্দো। এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি অধিনায়ক শেখ মেহেদী। ৯ বলে অপরাজিত ১৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। আরেক প্রান্তে ২ বলে ২ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন আমের জামাল। রাজশাহীর হয়ে সাকলাইন শিকার করেছেন ২ উইকেট। এছাড়া বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম যোগ করেন ৩০ রান। ১৯ বলে ২১ রান করা শাহিবজাদাকে ফেরান তানভীর ইসলাম। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন নাজমুল ইসলাম শান্ত। ১১ বলে ৮ রান করে শেখ মেহেদীর বলে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন রাজশাহী অধিনায়ক।
অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে। আকবর আলী খেলেন অনেকটা স্লো মোশনে। ১০ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে মুকিদুল ইসলামের বলে ক্যাচ দেন তানভীরের হাতে। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন তানজিদ তামিম। তবে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে তিনিও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। ৩৭ বলে ৪১ রান করে হাসান নাওয়াজের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
জেমস নিশামও আউট হয়েছেন দ্রুত। ৯ বলে ৬ রান করা এই কিউই অলরাউন্ডারকে সাজঘরে ফেরান মির্জা বেগ। পরের ওভারে রায়ান বার্লকে সাজঘরের পথ দেখান শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে সাকলাইনকে ফেরান আমের জামাল। ইনিংসের শেষ বলে দু্ই রান নিতে গিয়ে রানআউটে কাটা পড়েন বিনুরা ফার্নান্দো। আর তাতেই ১৩৩ রানে অলআউট হয় রাজশাহী।
চট্টগ্রামের হয়ে শেখ মেহেদী ও আমের জামাল নেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম, মির্জা বেগ ও হাসান নাওয়াজ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪১:৩৯ ২ বার পঠিত