প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা খাবার দিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রথম পাতা » খুলনা » প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা খাবার দিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬



প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা খাবার দিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই খাদ্য কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে যদি কোনো ধরনের পচা বা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশের জন্য সরকার মিড ডে মিলের মতো বড় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের গাফিলতির কারণে যদি কোমলমতি শিশুদের পচা খাবার দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের শুধু চাকরিচ্যুত নয়, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ‘প্যারালাইজড’ (স্থবির) করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সনাতন পদ্ধতির নকল এখন আর নেই, তবে ‘ডিজিটাল নকল’ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ফেসবুকে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ালেই দ্রুত আইনের আওতায় নিতে আসতে হবে। অপরাধ প্রমাণ করতে পারলে সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল বানাতে দিতে পারি না।’

মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের এক জায়গায় জেঁকে বসার সংস্কৃতির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা ও দেশের বড় বড় শহরে যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অলস বসে আছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করুন। যারা নিষ্ক্রিয়, তাদের অবিলম্বে উপজেলায় বদলি করা হবে। কর্মকর্তাদের অলসতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’

পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা কোনো প্রকার অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে যদি পরীক্ষার হলে বই বা কাগজ পাওয়া যায়, তবে তার দায় ওই কক্ষের পরিদর্শককে নিতে হবে। শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে বলতে পারেন না যে তারা দেখেননি।’

মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. মিলন বলেন, ‘বোর্ডগুলো শিক্ষকদের ৫০০ করে খাতা দিয়ে দেয়, কিন্তু শিক্ষকেরা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন- ওভার মার্কিং (বেশি নম্বর) নাকি আন্ডার মার্কিং (কম নম্বর) হচ্ছে- তা বোর্ড তদারকি করে না। আমাদের খাতা দেখার এই ঢিলেঢালা পদ্ধতি আমরা বদল করতে চাই।’

বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মতবিনিময় সভায় খুলনা ও যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৫:১২   ১০৭ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

খুলনা’র আরও খবর


ঝিনাইদহে সার মজুতের দায়ে ডিলারের জরিমানা
জামায়াত শেখ হাসিনা ও আ. লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে
নতুন গ্রামীণ সড়কে ইট নয়, ব্যবহার করতে হবে পরিবেশবান্ধব ব্লক: প্রতিমন্ত্রী
দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
সবার আগে জনগণের কথা শুনতে হবে: আইনমন্ত্রী
বাগেরহাটে ছাত্রদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ
বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে মাদক ঢোকানো হচ্ছে : আইনমন্ত্রী
সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কোন পদ্ধতিতে জানালেন আইনমন্ত্রী
গত ১৭ বছরে বহু প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
বাগেরহাটে এতিম নিবাস ও মসজিদ পরিদর্শন করলেন ধর্ম সচিব

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ