
মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের মধুখালীতে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। অতিবৃষ্টির কারণে মাঠের অধিকাংশ মরিচ গাছ পঁচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি প্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭শ ২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচ চাষিরা। উপজেলার মরিচ চাষিরা কম খরচে মরিচের সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ারও চাষ করেন। অতি বৃষ্টির কারনে কুমড়ার চাষ হবে না। যে কারনে লোকসান গুনতে হবে চাষিদের।
রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, এ বছর তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। এখন মরিচ ক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করবেন। তিনি বলেন, “চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।
আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, “সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, “মরিচ গাছ আর বাঁচবে না। তাই গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়। কৃষক মো. লালচান মোল্লা বলেন, “সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, মধুখালীতে এ বছর ২ হাজার ৭শ ২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে। ক্ষতির পরিমান ৫০শতাংশের উপরে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৬:৫৯ ৬ বার পঠিত