প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬



প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। তবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার হাদী বাবুল আক্তার বাবলুর গল্পটা ভিন্ন। জীবনের অপূর্ণ প্রেমকে সঙ্গী করে হাতে তুলে নিয়েছেন বাঁশি। সেই বাঁশির সুরেই কেটে গেছে প্রায় ২৫ বছর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৭ সেপ্টেম্বর) আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডের জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাঁশির সুরে দর্শকদের আনন্দ দেন বাবলু। তাঁর বাঁশির সুর শুনতে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরিচিত নানা গানের সুর তুলে উপস্থিত দর্শকদের কিছুটা সময়ের জন্য মাতিয়ে রাখেন তিনি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা গ্রামের হাদী আতিউর রহমানের ছেলে বাবলু। এলাকায় তিনি ‘বাঁশি বাবলু’ নামে পরিচিত। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

জীবিকার প্রয়োজনে দর্জির কাজ ও কৃষিকাজ করেন। পাশাপাশি ফুটবল খেলেন এবং শখের ‘দাবুড়ে’ ঘোড়া নিয়ে বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

তবে এসব পরিচয়ের পাশাপাশি বাবলুর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি একজন বংশীবাদক। প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশি বাজিয়ে আসছেন। বাড়ি থেকে বের হলেই বাঁশি থাকে সঙ্গে। সাইকেলে পথে বের হলে পরিচিত-অপরিচিতরা তাঁকে থামিয়ে বাঁশি বাজানোর আবদার করেন। বিনা পারিশ্রমিকেই তাঁদের আবদার পূরণ করেন তিনি।

রাস্তার মোড়, বাজার, নদীর পাড় কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই বাঁশিতে সুর তোলেন বাবলু। তাঁর সুর শুনতে পথচারীরাও কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান।

বাবলু বলেন, ওস্তাদ মনা মিয়া, জিতেন ঘোষ ও ওস্তাদ কায়েমের কাছ থেকে বাঁশি বাজানো শিখেছি। প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশির সুরে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ২৪ ঘণ্টাই বাঁশি আমার সঙ্গে থাকে। সুযোগ পেলেই সুর তুলি।

তিনি আরও বলেন, কলেজজীবনে প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার পর বাঁশির সুরের মাঝেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। মানুষের আনন্দের জন্য বাকি জীবন কাটাতে চাই। রেডিও-টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পাওয়াটা আমার স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ছিরু বলেন, মাথায় লম্বা চুল আর বাঁশির সুর—দুটিই বাবলুকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এ অঞ্চলে তাঁর বাঁশির সুর শোনেননি, এমন মানুষ খুব কম।

আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, বাঁশি বাংলা সংস্কৃতির প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রগুলোর একটি। বাবলু দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম, হাট-বাজার ও পথে পথে বাঁশির সুর ছড়িয়ে লোকজ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

বাবলুর কাছে এখন বাঁশিই সবচেয়ে আপন। সাইকেলে পথে বের হলে কাঁধে থাকে বাঁশি। সুযোগ পেলেই তাতে সুর তোলেন। আর সেই সুরে নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে মানুষকে আনন্দ দিয়ে চলেছেন ‘বাঁশি বাবলু’।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৯:৫০   ৪ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


পর্যায়ক্রমে সারা দেশে আধুনিক মানসম্পন্ন ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে - সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
বান্দরবানকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব করার গুরুত্বারোপ পার্বত্য মন্ত্রীর
প্রতিবেশী দেশ থেকে মাদক ঢুকিয়ে যুবসমাজ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে - মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
জমি বিক্রি নিয়ে সংঘর্ষে সরিষাবাড়ীতে রক্তাক্ত রণক্ষেত্র, নারীসহ আহত ২০
ফরিদপুরে বাড়িতে ঢুকে স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ
প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু
সরিষাবাড়ীতে ২০ পিস ইয়াবাসহ যুবদল নেতা গ্রেফতার
স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে সরিষাবাড়ীতে বখাটের ১ বছরের কারাদণ্ড
সদরপুর উপজেলা প্রবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০টি সিলিং ফ্যান অনুদান প্রদান
সদরপুরে আমিরাবাদ ফজলুল হক পাইলট ইনস্টিটিউটে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ