
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামের এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, হেলমেট পরা ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গুলি করে। পরে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তারা চলে যায়।
গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মোস্তাফিজুর রহমানকে রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে। তিনি সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
পরিবারের ভাষ্য, বুধবার স্কুল শেষে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমান। বিকেল পাঁচটার দিকে ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরা অবস্থায় তাঁর বাড়িতে ঢোকেন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও কাঠের লাঠি ছিল। একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
তাঁদের অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকেই মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলি করা হয়। গুলিতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে হামলাকারীরা চলে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের বোন মোহসীনা আক্তার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই তাঁর ভাইকে গুলি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা স্কুল থেকে মোস্তাফিজুরকে অনুসরণ করে বাড়িতে এসে গুলি করেন।
মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির ২৬ শতাংশ জমি চরভদ্রাসনের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছিলেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তি আরও প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই ছেলের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
শিক্ষক পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ আল মইদ (২৫)। তাঁর ভাষ্য, তাঁদের দেখে পালাতে গিয়ে পড়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। তখন তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। তাঁর পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আহত শিক্ষককে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার ‘ইনজুরি নোট’ অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। এতে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি, বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগও করেননি।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৭:২৮ ৪ বার পঠিত