
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালে নজিরবিহীন বয়কটের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চের দিকে অগ্রসর হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা একযোগে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনি মিশনের সমর্থনে এই গণবর্জনের ঘটনা ঘটে। বিশ্বমঞ্চে এমন প্রতিবাদের মুখে কোন কোন দেশ ও প্রতিনিধি এই বয়কটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভাষণকালে কার কার আসন ফাঁকা ছিল, তা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করছে ইসরাইলি প্রশাসন।
নিউ ইয়র্কে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে নেতানিয়াহু যখন ভাষণ শুরু করেন, তখন সম্মেলন কক্ষের সিংহভাগ আসনই ফাঁকা হয়ে যায়। তবে কক্ষে উপস্থিত নিজের সমর্থকদের করতালি ও উল্লাসের মধ্যে বক্তব্য চালিয়ে যান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। বের হয়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি তাদের ভুয়া মানবাধিকার কর্মী ও নৈতিক কাপুরুষ বলে আখ্যা দেন।
একই সঙ্গে যাদের সত্য শোনার সাহস বা মানসিকতা নেই, তাদের এখনই অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরাইলি সূত্রে পাওয়া তথ্য এবং সভার আলোকচিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ, সৌদি আরব, ইরান, আলজেরিয়া, সুদান, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, মন্টিনিগ্রো, কিরগিজস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ৭৭টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল হয় কক্ষ ত্যাগ করেছিল অথবা ভাষণের সময় অনুপস্থিত ছিল। অনেক দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো দল নিয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বেরিয়ে যায়। আবার কোনো কোনো দেশ প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে মূল প্রতিনিধি দল সরিয়ে নিয়ে কেবল মাত্র একজন প্রতিনিধিকে আসবসিয়ে রাখে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন নেতানিয়াহু। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ঘোর বিরোধী মেয়র মামদানি নেতানিয়াহুর ভাষণের ঠিক আগেই মেয়রের বাসভবনে ফিলিস্তিনের শান্তির প্রতীক হিসেবে একটি জলপাই গাছ রোপণ করেন এবং একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজ করে ভিডিও প্রকাশ করেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, তাকে থামানোর বা তার মুখ বন্ধ করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইল গাজায় কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং তা প্রতিরোধ করেছে বলেও নিজের ভাষণে দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৭:২৭ ৮ বার পঠিত