
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সঙ্গে থাকা দুটি সীমান্ত বাদে বাকি সব ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইরাককে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান, নৌ অবরোধ ও রাজনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে এবার স্থলপথে বাণিজ্য ও সরবরাহ বন্ধ করতেও বাগদাদের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করছে ওয়াশিংটন।
গতকাল শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরাকের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন।
তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এ অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন ও তাদের কার্যক্রম নিয়েও ইরাকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এরই মধ্যে গত ২১ অক্টোবর ইরানের সঙ্গে ইরাকের মায়সান প্রদেশের আল-শিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের দিকে এই ক্রসিংটি চাজাবেহ নামে পরিচিত। ইরাকি সরকারের নির্দেশে বন্ধ হওয়া এ ক্রসিং দিয়ে যাত্রী চলাচল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন—দুটিই স্থগিত রয়েছে।
তবে ক্রসিংটি বন্ধের পর থেকেই মায়সান প্রদেশে বিক্ষোভ চলছে। বন্ধের ১৮ দিন পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ উত্তেজনা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ফুয়াদ হুসেইন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় ইরাকের প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এখন শুধু সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের স্থলপথের যোগাযোগ ও বাণিজ্যও এ চাপের আওতায় আসছে। এতে ওয়াশিংটনের দাবি এবং তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে বাগদাদ।
সূত্র: মেহের নিউজ
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩০:২০ ৪ বার পঠিত #আল-শিব সীমান্ত ক্রসিং #ইরান-ইরাক সীমান্ত #ফুয়াদ হুসেইন #যুক্তরাষ্ট্র