ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ নিহত ১, আহত ২৫

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ নিহত ১, আহত ২৫
শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ নিহত ১, আহত ২৫

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই গ্রামবাসীর সংর্ঘষে ফয়সাল আহাম্মেদ নামে এক যুবক নিহত এবং পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারের দাবী পুলিশের গুলিতে ওই যুবক নিহত হয়েছে। তবে, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল সহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের ইকবালের চৌকিদারের ছেলে অটোরিকশা চালক আকাশের অটোরিক্সার সাথে একই ইউনিয়নের ধরন্তী সূর্যকান্দি গ্রামের সাবেক মেম্বার হুমায়ুন মিয়ার ছেলে তোফাজ্জলের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, এ নিয়ে পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার জেরধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল চালক তোফাজ্জলের লোকজন কালিকচ্ছ বাজারে এসে আবারও অটোরিক্সা চালক আকাশের উপর হামলা করে। এতে গুরুতর আহত হয় আকাশ। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কালিকচ্ছ বাজারে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালিকচ্ছ বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর হয়। পরে খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ার সেল এবং শর্ট গানের গুলি নিক্ষেপ করে। এ সময় ফয়সাল আহমেদ নামে এক যুবক নিহত হয়। আহত হয় আরও অন্তত ২৫ জন।

নিহতের মা হালিমা খাতুন বলেন, আমার ছেলে ঝগড়ার কিছুই জানে না। মারামারি দেখে দোকান বন্ধ করে আসার সময় পুলিশ তাকে গুলি করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

নিহতের নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে নিজের দোকানে ছিল ফয়সাল। পরে মারামারি দেখে দোকান বন্ধ করে বাইরে দাড়িয়ে ছিল। এ সময় পুলিশ এসে তাকে গুলি করে। আমার নাতি ঝগড়া সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাকে এভাবে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

ঘটনার খবর পেয়ে সরাইল উপজেলার পরষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর হাসপাতালে ছুটে আসেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর চৌধুরী জানান, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হাসপাতালে এসে ঘটনার খোঁজ খবর নেন। এ সময় তিনি দাবী করেন, সংঘর্ষ চলাকালে অসংখ্য ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ককটেল এর স্প্রিন্টারে হয়তো সে মারা গেছে।

বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তজেনা বিরাজ করছে। পরবর্তী সংর্ঘষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৪:৩৫:৫৬   ৩৬৯ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

চট্টগ্রাম’র আরও খবর


কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী
পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোন সুযোগ নেই : পানিসম্পদ মন্ত্রী
শ্রমজীবী নারীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার : শ্রমমন্ত্রী
মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
জটিলতা কাটিয়ে আজ আসছে রুপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি
জামায়াতকে হেফাজতের কাছ থেকে ইসলামের প্রচার শেখা উচিত: রাশেদ খাঁন
মা ইলিশ ধরলে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাতিল হবে জেলে কার্ড
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
ফেনীর ৩ উপজেলার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে দেশে অরাজকতার চেষ্টা চালাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ