কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি

কক্সবাজারে একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন ও ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি গ্যাস ট্যাংক নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনও আতঙ্ক কাটেনি। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনার কারণে অনেকেই রান্নার চুলা জ্বালাননি। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর এখন ধীরে ধীরে ভেসে উঠছে ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন। এদিকে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস পাম্প এলাকায় অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের তিন পাশে অসংখ্য বসতি রয়েছে। সেখানে পর্যটকবাহী গাড়ির গ্যারেজও রয়েছে।

সেখানে পর্যটকবাহী একটি জিপের মালিক ও চালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে গাড়িটি প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু গ্যাস পাম্পের আগুনে সেটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন ক্ষতিপূরণ কে দেবে, আর সুদের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব?’

শুধু রফিকুল ইসলামের গাড়িই নয়, ওই গ্যারেজে পর্যটকবাহী ৪০টির বেশি গাড়ি ছিল। এর মধ্যে তড়িঘড়ি করে মাত্র ১০টি গাড়ি বের করা সম্ভব হলেও বাকিগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুরো গ্যারেজটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গ্যাস পাম্পের পেছনেই ছিল মুন্নী বেগমের বসতি। আগুন থেকে বাঁচতে সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে ঘর থেকে বের হতে পারলেও তার বসতি, আসবাবপত্র, স্বর্ণ ও নগদ টাকা সবই পুড়ে গেছে।

মুন্নী বেগম বলেন, ‘বসতি তো শেষ। ঘরের ভেতরে রাখা ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। শুধুমাত্র জীবন বাঁচাতে এক কাপড়ে বের হতে পেরেছি। বাকি সবকিছু শেষ।’

প্রশাসনের নির্দেশনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও ঘরে রান্নাবান্না বন্ধ রেখেছেন। তারা বলছেন, এখনও তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখনও বসতিতে ঢুকতে পারিনি। রান্নাও হয়নি। রাতে অন্যত্র আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়েছি। আতঙ্ক কাটছে না, কারণ ফায়ার সার্ভিস থেকে আগুন না জ্বালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যাস পাম্প এলাকায় বর্তমানে সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ৯টি ইউনিট দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন এবং ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি গ্যাস ট্যাংক নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৯:০৭   ১৪০ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

চট্টগ্রাম’র আরও খবর


নোয়াখালীতে সাক্ষরতার হার ৭৫.৫২ শতাংশ
পানির স্তর স্বাভাবিক থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিএনপি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে - পানিসম্পদ মন্ত্রী
দাবি আদায় পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির
দেশীয় এলএসডি ভ্যাকসিনে সুরক্ষিত হবে গবাদিপশু: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপন
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ : কৃষিমন্ত্রী
বিএনপি ফটোসেশনের রাজনীতি করে না : পানিসম্পদ মন্ত্রী
পার্বত্য এলাকার সকল জাতিগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : পার্বত্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী
গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সমৃদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল গঠনে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ - সাচিং প্রু

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ