অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে পুষ্টিগুণ হারাচ্ছে মাটি

প্রথম পাতা » খুলনা » অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে পুষ্টিগুণ হারাচ্ছে মাটি
বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩



অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে পুষ্টিগুণ হারাচ্ছে মাটি

ঝিনাইদহে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার ও উপরিভাগ কেটে নেয়াসহ নানা কারণে পুষ্টিগুণ হারাচ্ছে মাটি। এতে ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।

ঝিনাইদহ জেলা মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম মাত্রার পুষ্টি উপাদান পাওয়া গেছে। এ জেলায় প্রতি ১০০ গ্রাম মাটিতে নাইট্রোজেন দশমিক ২৭ মাইক্রোগ্রামের পরিবর্তে রয়েছে দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম, যা অতি নিম্নমাত্রার। ফসফরাস ২৩-৩০ মাইক্রোগ্রামের পরিবর্তে ১৫ থেকে ২২, পটাশিয়াম দশমিক ২৭ এর পরিবর্তে দশমিক ১৮ মিলিতুল্যাংক, সালফার ২৭ মাইক্রোগ্রামের পরিবর্তে ২২ থেকে ৩০, জিংক ১ দশমিক ৩৫-এর স্থলে দশমিক ৪৫ থেকে দশমিক ৯০ মাইক্রোগ্রাম রয়েছে। পাশাপাশি বোরন (রাসায়নিক মৌল) দশমিক ৪৫ মাইক্রোগ্রামের পরিবর্তে উচ্চমাত্রায় দশমিক ৬১, অম্লমান ৬ দশমিক ৬০ থেকে ৮ দশমিক ৪০ যা নিরপেক্ষ মাত্রার এবং বেশি দরকারি জৈব পদার্থ রয়েছে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১ থেকে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা পুষ্টি উপাদানের অতি নিম্নমাত্রা।

ঝিনাইদহ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিখা নাসরিন বলেন, আগে আমরা এক বা দুই ফসল উৎপাদন করতাম। জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে। সেক্ষেত্রে তিন বা চার ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে। আর এই ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে রাসায়নিক সারের বেশি ব্যবহার করতে হচ্ছে। যে কারণে মাটির পুষ্টিগুণ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

তবে এলাকার কৃষকরা বলেন, আগের থেকে বর্তমানে দ্বিগুণ পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হয়। নতুবা ফসল ভালো উৎপাদন হচ্ছে না।

সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগেও যে জমিতে ১০ কেজি সার দিয়ে আবাদ করতাম। সেই একই জমিতে এখন ২৫ কেজি সার দিতে হয়। অনেক সময় এতেও কোনো কাজ হয় না। আমাদের তো উপায় নেই। ফসল উৎপাদন করতে হলে তো সার দিতেই হবে।

শৈলকুপা উপজেলার উত্তর মির্জাপুর গ্রামের কৃষক রুহুল শেখ বলেন, শুনেছি মাটি পরীক্ষা করে সার দিলে ভালো হয়; কিন্তু কোথায় যাব কীভাবে করব তা তো কেউ কোনোদিন বলেনি। মাটি পরীক্ষার বিষয়টি আরও সহজ করলে আমাদের জন্য ভালো হবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আজগর আলী বলেন, জেলায় চাষযোগ্য জমি রয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ২৩৫ হেক্টর। বর্তমানে জেলায় রাসায়নিক সারের চাহিদা এক লাখ ৫৩ হাজার ১৯৭ টন। প্রতি বছর দুই হাজার হেক্টর সারের চাহিদা বেশি হচ্ছে। এ অবস্থায় রাসায়নিক সারের পরিমিত ব্যবহার করতে আমরা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সঙ্গে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১১:২৩   ৩৫৫ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

খুলনা’র আরও খবর


আমির হামজার নারীঘটিত ব্যাপার জামায়াত আমিরও জানেন: রাশেদ খান
খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব : জেলা প্রশাসক
ভূমি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের
মোংলা বন্দর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক হাব
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধনে চীনা শিক্ষার্থীদের ড্রাগন ও লায়ন ডান্স পরিবেশন
শিল্পকারখানায় নাশকতার চেষ্টা হলে ২০২৪ সালের মতো জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী
মোংলা বন্দরে দুই কনটেইনার জেটি নির্মাণে ৪,০৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
লংমার্চ থেকে জামায়াত আমিরের হুংকার
ক্ষমতায় যেতে ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ শুরু করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ