
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন। মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রধান।
ইয়ার ইয়াবস বলেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে দুই মাসের মতো সময় বাংলাদেশে কাজ করবে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন।
শুধু সংসদ নির্বাচনই পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন। গণভোট পর্যবেক্ষণ করবে না ইইউ মিশন।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানো হলো। এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রক্রিয়ার প্রতি ইইউর দৃঢ় ও নীতিগত অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।
আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ডিসেম্বরের শেষ দিকে, যেখানে একটি ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করে।
ইয়ার ইয়াবস জানান, আজ ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রয়োজনীয় ব্রিফিং শেষে আগামী শনিবার তারা বাংলাদেশের সব বিভাগে মোতায়েন হবেন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়। নির্বাচনের ঠিক আগে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, পাশাপাশি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাতো থাকছেই।
তিনি জানান, ভোটের কাছাকাছি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনকে শক্তিশালী করবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এই মিশনে থাকবে ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশ থেকে আসা প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলার সময় থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফল সংকলন শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমরা আশা করি, আসন্ন নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ।
ইয়ার ইয়াবস জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ নির্বাচনের দুই দিন পর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আমরা আমাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করব।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিশন বাংলাদেশে থাকবে। প্রায় দুই মাস পর আমি আবার বাংলাদেশে ফিরে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করব, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশও থাকবে।
মিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে ইয়ার ইয়াবস বলেন, নির্বাচন কতটা জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা। আমরা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করব আইনি কাঠামো, নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রার্থীদের আচরণ। পাশাপাশি ভোটার তালিকার প্রতি আস্থা, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের পরিসর এবং পুরো প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র মূল্যায়ন করা হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনা আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করব।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৬:২২ ১৩ বার পঠিত