
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তারা বগলের তলে ঋণখেলাপি রেখে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার কথা বলছে! পেঁচায়ও হাসবে এ কথা শুনে। জনগণ সবার চালাকি বোঝে। জনগণকে কেউ যেন বোকা না ভাবে।’
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোলচত্বর মাঠ) এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
জামায়াত আমির বলেন, ‘লেজ ধরে টানাটানি না করে কান ধরে টান দিলেই দুর্নীতি দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা লেজ আর পা ধরব না, আমরা মাথার ওই যে ডান আর বাঁয়ে কান আছে, ওইটা ধরে টান দেব।’
আমলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন রটাচ্ছে কোন আমলে কোন কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ১১ দল যদি ক্ষমতায় আসে জামায়াতের নেতৃত্বে এদের সবাইকে বাদ দিয়ে দেবে! আমাদের অঙ্গীকার, ইনসাফ কায়েম করা।
যেদিন থেকে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে, সেদিন থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘অতীতের অনেক কিছু নিয়ে কিছু হয়তো আমরা করতে পারব না, কিন্তু কিছু বিষয় আমরা ছাড়তে পারব না। আমরা ছাড়তে পারব না আবু সাঈদের হত্যাকারীকে, আমরা ছাড়তে পারব না আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের। তাদের সহযোদ্ধারা, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি, তার হত্যাকারীদের জন্য কোনো মায়া নাই, দয়া নাই, ছাড় নাই।
’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন, জুলাই বীরদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন, এই নির্বাচন হচ্ছে মা-বোনদের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন, এই নির্বাচন শিশুর স্বপ্ন মেলে ধরার নির্বাচন, এই নির্বাচন হচ্ছে পচা-ঘুণে ধরা ৫৪ বছরের যে রাজনীতি দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে সেই রাজনীতিকে বিদায় জানানোর, লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ১৩ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে জনগণ নতুন একটা বাংলাদেশ পাবে। সেদিন আমাদের মায়েদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেব, ইনশাআল্লাহ। তাদের জন্য সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেই জন্য আমরা বলেছি, মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা খরচ বহন করবে সরকার।
’
সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারা অনেক কিছু রটায়, ঘটায়। কারা করে এগুলা! যখন দেখে চতুর্দিকে অন্ধকার, তখন দিনকেও রাত মনে করে। দিশেহারা হয়ে যায়, কী বলবে, কী বলবে, হিসাব খুঁজে পায় না। কিন্তু মনে রাখবেন, এ দিয়ে মানুষের ভালোবাসার জোয়ার ঠেকানো যাবে না। জনগণের দেহের ওপর চাবুক মারতে পারবেন, মনের ওপর চাবুক মারতে পারবেন না।’
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৯:৪০ ৩ বার পঠিত