
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন বা ভোট শেষে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবেলায় প্রিসাইডিং অফিসার,পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোট গ্রহন চলাকালীন যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার প্রথমেই আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেবেন। ভোট চলাকালীন কেউ জাল ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা ভোট কেন্দ্রে কোনো অসৎ আচরণ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এছাড়া কোনো পোলিং এজেন্ট বা অন্য কেউ যদি কোনো ভোটারের পরিচয় নিয়ে আপত্তি জানান, যেমন ভোটার ওই এলাকার নন বা তিনি আগেই ভোট দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে নগদ ১০০ টাকা জমা দিতে হবে। এই ফর্ম সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার পর ভোটারকে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি জানানো হবে এবং চ্যালেঞ্জ প্রমাণিত হলে ভোটারের ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ভোটার যদি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, তবে তাকে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে এবং ভোট দেওয়ার পর সেটি ‘চ্যালেঞ্জ ভোটের খামে’ সংরক্ষণ করা হবে। ভোট গণনার সময় চ্যালেঞ্জটি বৈধ প্রমাণিত হলে সেই ভোট সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে গণনা করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ভোটার যদি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হন বা নিজে ভোট দিতে অক্ষম হন, তবে তিনি তার পছন্দমতো ২১ বছরের বেশি বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গোপন কক্ষে ভোট দিতে পারবেন। এ সময় গোপন কক্ষে ভোটার ও তার সহকারী ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ভোট শেষ হলে ব্যালট যথারীতি ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
অন্যদিকে, কোনো ভোটার যদি দাবি করেন যে তিনি ভোট দেননি এবং তার হাতে কালি নেই, কিন্তু অফিসিয়াল তালিকা ও মুড়িপত্রে তার স্বাক্ষর রয়েছে, তবে তিনি একটি সান্ত্বনামূলক ভোট দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাকে আলাদা একটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, যা মূল ব্যালট বাক্সে না ফেলে একটি পৃথক খামে সংরক্ষণ করা হবে। তবে এই ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এ ধরনের ভোটকে বলা হয় ‘টেন্ডারড ভোট’।
নির্দেশনার শেষাংশে ভোটারদের নির্ধারিত দিনে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের বরাতে বলা হয়েছে, একটি ভোটই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৩:৩৪ ৫ বার পঠিত