
মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। একুশের প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত করেন।
দূতাবাসের সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াত এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এরপর একটি আলোচনা সভা এবং পরবর্তীতে দিবসটি উপলক্ষ্যে ইউনেস্কোর জেনারেল কনফারেন্স প্রেসিডেন্টের ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সকল ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত দিবসটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার সংগ্রাম নয়, একইসাথে আত্মসচেতনা সমৃদ্ধ জাতীয় জাগরণের অনুপ্রেরণার উৎস।
তিনি বলেন, আমাদের শহিদ দিবস শুধু আমাদের দিবসই নয় এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক এ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করার মাধ্যমে সারা বিশ্বে মাতৃভাষা সংরক্ষণের একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনা ধারণ করেই দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এ স্বাধীনতা এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহিদদের শ্রদ্ধা ও আহতদের সম্মান জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম দায়িত্ব হলো শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষার চর্চা করা এবং বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর পরিমণ্ডলে সার্বিকভাবে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিসরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা, মিসরে প্রসিদ্ধ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী বাংলাদেশি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:১২:৫৭ ৬ বার পঠিত