
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে জাপানে ‘প্যানিক বাইং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের জেরে দেশটির সাধারণ মানুষ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করতে শুরু করেছেন। আর এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি টয়লেট পেপারও!
এ পরিস্থিতিতে দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জনগণকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গেছে টয়লেট পেপার, বিড়ালের খাবার থেকে শুরু করে পানীয় পর্যন্ত নানা পণ্য জমিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আরো দেখা গেছে, ওষুধের দোকানের খালি তাক এবং মানুষের অতিরিক্ত পণ্য মজুদের দৃশ্য।
এতে দেশটিতে ভয়ের একটি চক্র তৈরি হয়েছে, যা আরো বেশি মানুষকে অতিরিক্ত কেনাকাটায় উৎসাহিত করছে।
একজন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমাদের পাশের দোকানে টয়লেট পেপার শেষ! মনে হচ্ছে সবাই মজুদ করছে।
জাপানের জন্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময় দেশজুড়ে টয়লেট পেপার মজুদের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল, যা বাস্তব সংকট তৈরি করেছিল। এরপর ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি এবং করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। প্রতিবারই দেখা গেছে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে মানুষের ভয়ই ছিল বড় কারণ।
বর্তমান ইরান সংকট ঘিরেও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা আবারও সেই মানসিক প্রতিক্রিয়াকে উসকে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তি খুবই কম। জাপানের প্রায় ৯৭ শতাংশ টয়লেট পেপার দেশেই উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই পুনর্ব্যবহৃত কাগজ থেকে তৈরি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে এ পণ্যের সরবরাহের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
কারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে এবং চাহিদা বাড়লে উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন উৎপাদনকারীরা।
সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অযথা মজুতের প্রবণতাই আসলে সমস্যার জন্ম দেয়। কিছু মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে ফেললে দোকানের তাক খালি হয়ে যায়। এতে অন্যরা পণ্য না পেয়ে আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি এক ধরনের দুষ্টচক্রে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৩:০৬ ৭ বার পঠিত