
লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে মায়োর্কার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের সামনে। কিন্ত অবনমনের শঙ্কায় থাকা দলটার কাছে শেষ পর্যন্ত হেরেই বসলো মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার (৪ এপ্রিল) ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে গেছে আলভারো আবরেলোয়ার দল।
মানু মর্লানেসের গোলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে রিয়াল। এরপর ম্যাচের শেষ ভাগে চোট কাটিয়ে ফেরা এদের মিলিতাও দারুণ এক গোলে দলকে সমতায় ফেরান। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি— মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে আবারও গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালকে।
বল দখলে অনেকটাই পিছিয়ে থেকেও কার্যকারিতায় দারুণ সফল ছিল মায়োর্কা। গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া ছয়টি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রেখে তারা আদায় করে নেয় জয়। তবে তাদের দুই গোলের পেছনেই বড় ভূমিকা ছিল রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুল। আক্রমণেও ছন্দহীন ছিল রিয়াল মাদ্রিদ; প্রতিপক্ষকে তেমন একটা চাপে ফেলতে পারেনি তারা। মোট ১৫টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র ছয়টি।
টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর অবশেষে হারের মুখ দেখল রিয়াল মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমে এটি তাদের পঞ্চম পরাজয়। ৩০ ম্যাচে ২২ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে তারা। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭৩।
এদিকে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে আপাতত বেরিয়ে এসেছে মায়োর্কা। ৩০ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে তারা।
অবনমন অঞ্চলের দলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে প্রাধান্য দেখায় রিয়াল, তবে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের। ২৫তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে—এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার বাড়ানো থ্রু বল ধরে নেওয়া তার শটটি চমৎকার দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
এর আট মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। এবার আর্দা গুলারের শটও দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় রুখে দেন রোমান। সেই ব্যর্থ আক্রমণের পর পাল্টা আক্রমণে উঠে স্বাগতিকরা পেয়ে যায় বড় সুযোগ, কিন্তু ফাঁকায় বল পেয়েও হেডটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মর্লানেস।
দুটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর ৪২তম মিনিটেই প্রথম লক্ষ্যে শট থেকে এগিয়ে যায় মায়োর্কা। ডি-বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। কাছে থাকলেও যথাসময়ে বাধা দিতে পারেননি আন্টোনিও রুডিগার।
বিরতির পর বল দখল আরও বাড়িয়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় রেয়াল, তবে গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। ম্যাচে গতি আনতে ৫৯তম মিনিটে একসঙ্গে ভিনিসিউস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম ও এদের মিলিতাওকে মাঠে নামান কোচ।
ক্রমাগত চাপ বজায় রাখলেও এমবাপ্পে-ভিনিসিয়াসরা তেমন কার্যকর হতে পারছিলেন না। অবশেষে ৮৮তম মিনিটে কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে সমতা ফেরান মিলিতাও। পেশির চোটে ডিসেম্বরের শুরু থেকে মাঠের বাইরে থাকা এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের জন্য এটি ছিল স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি লিগে ঘরের মাঠে আগে এগিয়ে যাওয়া ছয় ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি মায়োর্কা— পাঁচ জয় ও একটি ড্র ছিল তাদের ঝুলিতে। সেই ধারাবাহিকতা অটুট রাখতেই যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন ভেদাত মুরিকি। ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় সতীর্থের পাস পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন কসোভোর এই স্ট্রাইকার।
এর ফলে লা লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে সবশেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় তুলে নিল মায়োর্কা।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪১:১৯ ৫ বার পঠিত