পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: রিজভী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: রিজভী
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬



পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অন্যতম প্রধান উৎসব, যার গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি সংরক্ষণে সচেতনতা জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির ঐতিহ্য, জীবনধারা ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একসময় গ্রামবাংলায় পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে হালখাতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ এবং সামাজিক উৎসব পালনের ঐতিহ্য ছিল, যা এখন শহরাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেলের ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার একসময় দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল। কিন্তু আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও নগরায়ণের প্রভাবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা সাল ও তারিখ সম্পর্কে অনভিজ্ঞ হয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব ভাষা ও লিপি হারিয়ে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। দীর্ঘদিন চর্চার অভাবে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তবে বাংলাদেশ এখনো নিজস্ব ভাষা ও লিপি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

রিজভী বলেন, ইসলামী ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সমন্বয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ‘ইউসুফ-জুলেখা’ ও ‘লাইলী-মজনু’র মতো কাহিনী দীর্ঘদিনের চর্চায় এ দেশের লোকসংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। একইভাবে যাত্রাপালা, কবিগান, গম্ভীরা, জারি-সারি প্রভৃতি পারফর্মিং আর্টস বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, উগ্রবাদী আক্রমণ ও অসহিষ্ণুতা এই সংস্কৃতির জন্য হুমকি। বাউল, সুফি ও লোকজ ধারার ওপর আঘাত মানে দেশের সংস্কৃতির মূলে আঘাত হানা। তাই জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে এবং এটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা গড়ে ওঠার পেছনেও লোকজ সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যাত্রাপালা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও আত্মপরিচয়ের বোধ জাগ্রত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:২০:৫৮   ৬ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


আল কোরআন ও আল হাদিস
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নৈতিকতা ও আদর্শ গড়ে তোলা: সাখাওয়াত
শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে: জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুন মাহমুদ
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার
চরকাতলাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
মেলান্দহের দুরমুঠ মেলায় মাদকবিরোধী অভিযান, ৫ জনের কারাদণ্ড
বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে আইসিএবি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
দুই দিনব্যাপী হজ প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান
পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: রিজভী

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ