
জামালপুর প্রতিনিধি: গ্যাস সরবরাহ পেয়েও চাপ কম থাকায় দীর্ঘ ১৫ দিন পর অবশেষে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)।
গ্যাস সংযোগ পাওয়ার ১৫ দিন পর সোমবার(৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে সার উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, জেএফসিএলে ইউরিয়া সারের স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে নির্ধারিত দৈনিক ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ১,০৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ রাখা জরুরি।
এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। গ্যাসের চাপ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ১৫ দিন পর সোমবার গভীর রাতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়।
জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় এ কারখানার সার সরবরাহ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বন্ধ হওয়ার ২২ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর গ্যাস পেয়েছিল কারখানাটি, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবারও বন্ধ হয়।
দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের সার সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমজীবী মানুষের আয়-রোজগারে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। উৎপাদন শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। স্থায়ীভাবে সার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন জেএফসিএল-এর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, সার ডিলার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং স্থানীয় কৃষকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৭:০২ ৫ বার পঠিত