১১ মাসে ৪২.৮৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি

প্রথম পাতা » অর্থনীতি » ১১ মাসে ৪২.৮৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি
শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩



১১ মাসে ৪২.৮৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি

রপ্তানি খাতের বিভিন্ন পণ্যে নেতিবাচক ধারা থাকলেও পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ১১ মাসে শুধু পোশাক খাতেই প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই বাজারে মোট পোশাকের ২০ শতাংশের মতো রপ্তানি হয়। এই ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৯ শতাংশ। তবে ইউরোপের দেশগুলোতে (ইইউভুক্ত দেশগুলো) জানুয়ারি নভেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে রপ্তানি বেশ বেড়েছে; বলা যায় উল্লম্ফন হয়েছে। জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি আয় দেশে এসেছে।

আর অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ার কল্যাণেই সার্বিক পোশাক রপ্তানিতে এখনও ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বজায় আছে বলে মনে করছেন পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমাটা আমাদের জন্য উদ্বেগের। ইউরোপের বাজারের অবস্থাও ভালো নয়; নামমাত্র প্রবৃদ্ধি আছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, অপ্রচলিত বাজারগুলোতে আমাদের রপ্তানি বেশ বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত (নতুন) বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছিলাম। তারই ইতিবাচক ফল এখন আমরা পাচ্ছি। ভারতের পাশাপাশি জাপান, চীন, অষ্ট্রেলিয়া ও তুরস্কসহ অন্যান্য নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়ছে। এমনকি যুদ্ধের কারণে নানা বাধার মধ্যেও রাশিয়াতেও এখন রপ্তানি বাড়ছে।

বৈশ্বিকভাবে ২০২৩ সালটি পোশাক খাতের জন্য ২০২২ সালের মতো অতটা ভালো ছিলো না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৭৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সালে তা কিছুটা কমবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কেননা, ইতোমধ্যেই ইউরোপ ও আমেরিকার পোশাক আমদানি কমেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের মতো আসে এই খাত থেকে।

নতুন বছর কেমন যাবে—এ প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ২০২৪ সালটি কেমন যাবে এটা বলা কঠিন। কারণ, একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি কোথায় যায়—সেটি আমাদের দেখতে হবে। এর সাথে জড়িয়ে আছে সাপ্লাই চেইন, মূল্যস্ফীতি, ইত্যাদি বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়বে বলে আমরা ইঙ্গিত পাচ্ছি। আমরা যদি আমাদের অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে পারি; আর নতুন পণ্য ও বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের কাঙ্খিত ধরে রাখতে পারব।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালে ৪৫ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০২১ সালে ছিলো ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৮:১১   ৩৩২ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী
এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভরতা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে : অর্থমন্ত্রী
বাংলাকিউআরে ৯০ দিনে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ
অস্ট্রিয়ার ওইইবির সঙ্গে প্রাইম ব্যাংকের ঋণচু্ক্তি
২০৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই : অর্থমন্ত্রী
কুনমিংয়ে মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল: চীনের বাজারে বাংলাদেশের ফল রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা
বর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী
দেশে স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ